শিক্ষার্থীদের-বিনামূল্যে-চক্ষু-পরীক্ষা

স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগাম হলো মানবিক সাহায্য সংস্থার আই কেয়ার প্রজেক্টের একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচী। যে কর্মসূচীর মাধ্যমে মানবিক সাহায্য সংস্থার আই কেয়ার প্রজেক্ট সরকারী, বেসরকারী, এনজিও এর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা দিয়ে আসছে। ২০১৭ সাল থেকে এমএসএস আই কেয়ার প্রজেক্টের স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম অব্যাহতভাবে এই সেবা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। শহর, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সেবা পেয়ে আসছে। শিক্ষার্থীদের এই সেবা দিতে এমএসএস আই কেয়ার প্রজেক্ট এর ভ্রাম্যমাণ চক্ষু ক্লিনিক ‘নয়নতরী’ ছুটে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৌড়গোড়ায়। যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘নয়নতরী’ যেতে পারে না, সে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চক্ষুসেবা দল পৌঁছে যায় শিক্ষার্থীদের চোখের সেবা দিতে।

মানবিক সাহায্য সংস্থার সভাপতি ফিরোজ এম হাসান বলেন, দরিদ্রতার কারণে কেউ অন্ধ রবে না, এই প্রত্যয়ে আমরা কাজ করছি। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিই নন, শিশুদের চোখের সুস্থতাও অতীব জরুরী। কেননা চোখ অমূল্য সম্পদ একজন মানুষের জীবনে। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যত। চোখের সমস্যা থাকলে সে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারবে না। সুষ্ঠু ও সফলভাবে শিক্ষাপাঠ শেষ করতে পারবে না। বিশেষত যারা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, তাঁদের চোখের সেবা দেয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে।

স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টিম দিয়ে কেবল চোখের সেবা দিচ্ছে না। চোখ কীভাবে যতœ নিতে হয়, সেই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলবার কাজটি করছে বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত পোস্টার, ফ্লায়ারস ও প্ল্যাকার্ড বিতরণের মাধমে। সম্প্রতি টঙ্গীর এরশাদ নগরের ১৭টি সরকারী, বেসরকারী ও এনজিও স্কুলে এমএসএস আই কেয়ার প্রজেক্ট তার স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামে মাধ্যমে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের চোখের সেবা দিয়েছে। এই সেবার মধ্যে ছিল বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের চোখ পরীক্ষা করানো, প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা বিতরণ, ওষুধ বিতরণ। মোট ১৭টি স্কুলের ৫২১২ জন শিক্ষার্থীর চোখ পরীক্ষা করানো সম্ভব হয়েছে। ২৭৫ জনকে চশমা ও ১১৭ জন শিক্ষার্থীকে চোখের আই ড্রপ দেয়া হয়েছে। ২ জন শিক্ষার্থীর চোখের সমস্যার কারণে তাদের রেফারেল সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ১৭টি স্কুলের মধ্যে ১০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের চোখের সেবা দেয়া সম্ভব হয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দাতার বিশেষ অনুদানে। এমএসএস আই কেয়ার প্রজেক্ট এর কিছু সম্মানিত দাতা আছেন, যাঁদের অব্যাহত সহায়তায় সুবিধাবঞ্চিতদের চোখের সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এরশাদ নগরের যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সেবা পেল, সেগুলো হলো, আবাবিল পাবলিক স্কুল, আহসান উল্লাহ মাস্টার স্কুল, মজিদা সরকারী হাই স্কুল, কবি নজরুল বিদ্যা নিকেতন, নলেজ একাডেমি, কবি মহসিন আইডিয়াল স্কুল, তরুণ সংঘ আইডিয়াল স্কুল, নবীন কুড়ি মর্ডান হাই স্কুল, ন্যাশনাল আইডিয়াল একাডেমি, জাগরণী হাই স্কুল, ইকো সোশ্যাল ডেভেপলপমেন্ট স্কুল, দ্য রেইন বো পাবলিক স্কুল, অ্যাডরা স্কুল, টিডিএইচ সরকারী প্রাথমিক স্কুল, রওশান এরশাদ সরকারী প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়, সঙ্কল্প একাডেমি, বিকল্প একাডেমি।

স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ মানবিক সাহায্য সংস্থার আই কেয়ার প্রজেক্ট এর এই স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামে আনন্দ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্র্থীদর কেউ কেউ বলেন যে, কখনই তার এভাবে চোখ পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। ব্লাকবোর্ড দেখতে অসুবিধা হলেও সে ভাবেনি যে, তার চশমা লাগবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এমন সেবা বিনামূল্যে ও যত্নসহকারে পেল বিধায় মানবিক সাহায্য সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অভিভাবকগণ বলেন, এরশাদ নগরের স্কুলে অধিকাংশ দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর শিশু-কিশোর পড়াশোনা করে। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চিন্তা পরিবার অনেক সময় করতে পারেন না। তেমন পরিস্থিতিতে এমন সেবা কার্যক্রম অনেক অর্থবহ ও কার্যকরী। আগামীতেও তারা সেবা নিয়ে আসুক। আমাদের শিশুরা চোখের সুস্থতা নিয়ে বেড়ে উঠুক।

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯; দৈনিক জনকণ্ঠ