টাইফয়েড হচ্ছে? কিন্তু কেন?

টাইফয়েড হচ্ছে

বছরের এই সময়ে টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ে। এই জ্বর স্যালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তস্রোতে ও অন্ত্রনালিতে এই ব্যাকটেরিয়া বাস করে। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে তা দ্রুত সুস্থ ব্যক্তির শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মুজিবুর রহমান বলেন, টাইফয়েড একটি পানিবাহিত রোগ। বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এই গরমে বাইরের দূষিত পানি, খাবার ইত্যাদি এড়িয়ে চলা উচিত।

টাইফয়েড জ্বর কীভাবে ছড়ায়?

টাইফয়েড জ্বর থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বহন করছেন—এমন কিছু ব্যক্তিও এই রোগের বাহক হতে পারেন। এমন ধরনের ব্যক্তিরাই মলত্যাগের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটিয়ে থাকেন। পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা যথাযথ না হলে রোগীর মল পানির সংস্পর্শে এলে এবং পরবর্তী সময়ে এই দূষিত পানি খাবারে ব্যবহৃত হলে অথবা টাইফয়েড জ্বরের ব্যাকটেরিয়া বহন করছেন—এমন কোনো ব্যক্তির স্পর্শকৃত বা হাতে বানানো খাবার গ্রহণ থেকেও টাইফয়েড জ্বর সংক্রমিত হতে পারে।

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ

 ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত টানা জ্বর।
 ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা অনুভূত হওয়া, মাথাব্যথা করা।
 শরীর ম্যাজম্যাজ করা, কফ বা কাশি হওয়া, হৃৎস্পন্দন কমে যাওয়া, ক্ষুধামান্দ্য।

টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করতে হবে। নির্দিষ্ট ওষুধ শুরুর পর জ্বর কমতে পাঁচ দিনও লেগে যেতে পারে। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরও যাঁরা দ্রুত চিকিৎসা করেন না, তাঁদের সপ্তাহ বা মাসব্যাপী জ্বর থাকতে পারে এবং বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। পানিশূন্যতা দেখা দিলে শিরার মাধ্যমে তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। উচ্চ ক্যালোরিসম্পন্ন স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত তরল খাবার খেতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।
শাকসবজি, ফলমূল এবং রান্নার বাসনপত্র পরিষ্কার পানিতে ধুতে হবে। খাবার গ্রহণ, প্রস্তুত বা পরিবেশনের আগে খুব ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। ভালোভাবে েফাটানো, পরিশোধিত বা বোতলজাত বিশুদ্ধ পানিই কেবল পান করতে হবে৷

গ্রন্থনা: মো. শরিফুল ইসলাম
২১ মে ২০১৪, ০০:২০ ; প্রথম আলো